September 2, 2026, 12:11 am
দেশে কঠোর লকডাউনের মধ্যেও চলতি বছরের এপ্রিলে ৩১৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আর অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই- এপ্রিল) ৩ হাজার ২০৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। যা বিগত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। রোববার (২ মে) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইপিবি।
গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সাধারণ ছুটিতে বন্ধ হয়ে যায় দেশের রফতানিমুখী শিল্প। সে বছরের এপ্রিলে মাত্র ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়, সেই হিসেবে গত বছররে তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে ৫০২ দশমিক ৭৫ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ৩০৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতাানি হয়। আর ২০১৯ এর এপ্রিলের তুলনায় গত মাসে রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াপণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রফতানি আছে ইতিবাচক ধারায়। তবে হিমায়িত খাদ্য ও সিরামিক পণ্যের রফতানি কমেছে।
চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। নিট পোশাকের রফতানি ১৫ শতাংশ বাড়লেও ওভেন পোশাকের রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এছাড়া, একই সময়ে মাসে ১০৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য, ৯৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল ,৭৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য, ৪৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য ও ৩৯ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়েছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৭৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য, ৪৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ৩৯ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়া পণ্যে সাড়ে আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
অবশ্য চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আরও ৮৯৩ কোটি ডলার প্রয়োজন। মে ও জুন মাসে এই পরিমাণ রফতানি অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময়ই লকডাউন ও সাধারণ ছুটির বিপক্ষে ছিলাম। মানুষকে যদি তার আয় থেকে দূরে রাখা হয়, সে কতদিন চলতে পারবে। তাদের কাজের মধ্যে রাখতেই হবে। করোনা প্রতিরোধের দ্বিতীয় বিধিনিষেধে আগের মতো সব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি, এটা ভালো দিক। যার ইতিবাচক প্রভাব এপ্রিলে পাওয়া গেল।